বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬ লগইন
মতামত

ইন্দোনেশিয়ার আকাশে পুড়ে ধ্বংস নাসার দেড় টন ওজনের মহাকাশযান

Khulna24 • প্রকাশ: ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ০২:২৮ রাত

ইন্দোনেশিয়ার আকাশে পুড়ে ধ্বংস নাসার দেড় টন ওজনের মহাকাশযান

প্রায় ২২ বছর মহাকাশে থাকার পর পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার দেড় টন ওজনের পর্যবেক্ষণযান ‘নিল গেহরেলস সুইফট অবজারভেটরি’। বুধবার (৪ নভেম্বর) ইন্দোনেশিয়ার উত্তর সুমাত্রা অঞ্চলের ওপর দিয়ে বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে মহাকাশযানটি। এর অধিকাংশ অংশ পুড়ে যাওয়ার কথা থাকলেও কিছু ধ্বংসাবশেষ ভূপৃষ্ঠে পৌঁছাতে পারে বলে জানিয়েছিল নাসা।

মহাবিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী বিস্ফোরণ হিসেবে পরিচিত গামা রশ্মির বিস্ফোরণ নিয়ে গবেষণার উদ্দেশ্যে ২০০৪ সালের ২০ নভেম্বর মহাকাশে পাঠানো হয়েছিল সুইফট অবজারভেটরি। প্রায় ৩ হাজার ২০০ পাউন্ড বা ১ হাজার ৪৫২ কেজি ওজনের এই মহাকাশযানটির প্রাথমিকভাবে দুই বছর কাজ করার কথা ছিল। তবে নির্ধারিত সময়ের প্রায় ১১ গুণ বেশি সময় ধরে এটি মহাকাশে গবেষণার কাজ চালিয়ে গেছে।

রয়টার্স ও অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বুধবার সকাল ৭টা ৩৯ মিনিটে (যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বাঞ্চলীয় সময়) মহাকাশযানটি ঘণ্টায় প্রায় ২৭ হাজার কিলোমিটার গতিতে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে। এ সময় বায়ুমণ্ডলের সঙ্গে সংঘর্ষ ও প্রচণ্ড তাপের কারণে এর অধিকাংশ অংশ পুড়ে যাওয়ার কথা। তবে ঘন ও ভারী কিছু অংশ অক্ষত অবস্থায় ভূপৃষ্ঠে পৌঁছাতে পারে।

এর আগে নাসা জানিয়েছিল, মহাকাশযানটির ধ্বংসাবশেষের কারণে পৃথিবীর কোনো মানুষের ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা খুবই কম। এ ঝুঁকি ২ হাজার ১০০ জনের মধ্যে একজনের সমান।

নাসার পূর্বাভাস অনুযায়ী, মহাকাশযানটির সম্ভাব্য ধ্বংসাবশেষ দক্ষিণ অক্ষাংশের ২০ দশমিক ৬ ডিগ্রি থেকে উত্তর অক্ষাংশের ২০ দশমিক ৬ ডিগ্রির মধ্যবর্তী এলাকায় পড়তে পারে। অর্থাৎ বিষুবরেখার উত্তর ও দক্ষিণে প্রায় ২ হাজার ২৮৫ কিলোমিটার বিস্তৃত অঞ্চলে এর ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা ছিল। এ অঞ্চলের মধ্যে সমুদ্রের পাশাপাশি আফ্রিকা, দক্ষিণ এশিয়া, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও দক্ষিণ আমেরিকার কিছু অংশ রয়েছে।

সুইফট অবজারভেটরিতে তিনটি বিশেষ টেলিস্কোপ ছিল। এগুলোর মাধ্যমে মহাকাশের গামা রশ্মির বিস্ফোরণ, সুপারনোভা, কৃষ্ণগহ্বরসহ বিভিন্ন মহাজাগতিক ঘটনা পর্যবেক্ষণ করা হতো। কোনো শক্তিশালী মহাজাগতিক বিস্ফোরণ শনাক্ত করার পর দ্রুত সেটির দিকে ঘুরে পর্যবেক্ষণ চালানোর বিশেষ সক্ষমতা ছিল মহাকাশযানটির।

নাসার তথ্য অনুযায়ী, দীর্ঘ কর্মজীবনে সুইফট দুই হাজারের বেশি গামা রশ্মির বিস্ফোরণ শনাক্ত করেছে। এর সংগৃহীত তথ্য ব্যবহার করে প্রায় সাত হাজার বৈজ্ঞানিক গবেষণাপত্র তৈরি হয়েছে।

মহাকাশযানটির কক্ষপথ ধীরে ধীরে নিচে নেমে আসায় এর কার্যক্রম বন্ধ করতে হয়। কক্ষপথ উঁচু করে মহাকাশযানটির কার্যক্ষমতা বাড়ানোর জন্য নাসা একটি উদ্ধার অভিযানও চালিয়েছিল। তবে চলতি বছরের জুলাইয়ে উৎক্ষেপণ করা উদ্ধারযানটি নিয়ন্ত্রণসংক্রান্ত সমস্যায় পড়ে। ফলে অভিযানটি সফল হয়নি।

এভাবেই প্রায় ২২ বছরের বৈজ্ঞানিক যাত্রার অবসান ঘটে নাসার সুইফট অবজারভেটরির।

এই খবরটি কেমন লাগল?

মন্তব্য

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

আপনার মন্তব্য লিখুন

সব মন্তব্য যাচাইয়ের পর প্রকাশিত হয়। ভদ্র ভাষায় লিখুন।