সম্পূর্ণ সাইটে দেখুন (মন্তব্য ও শেয়ার-সহ)
বটিয়াঘাটা

বটিয়াঘাটায় মোবাইল কিনে না দেওয়ায় অভিমান, আত্মহত্যা করেছে অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী প্রিয়াঙ্কা গাইন।

বটিয়াঘাটায় নিজ বাড়ি থেকে কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার; তিন বোনের মধ্যে প্রিয়াঙ্কা ছিল দ্বিতীয়, পরিবারের দাবি—মোবাইল ফোন কেনার আবদার পূরণ না হওয়ায় অভিমান করেছিল সে

Khulna24 • ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ০৬:৩২ সকাল

নিজস্ব প্রতিবেদক, খুলনা:

খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলায় প্রিয়াঙ্কা গাইন (১৫) নামে অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পরিবারের ধারণা, বাবার কাছে মোবাইল ফোন কিনে দেওয়ার আবদার পূরণ না হওয়ায় অভিমান করে আত্মহত্যা করেছে সে।

বুধবার (৪ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার ২ নম্বর বটিয়াঘাটা ইউনিয়নের খলিশাবুনিয়া এলাকায় নিজ বাড়ি থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রিয়াঙ্কার বাবা পেশায় একজন ভ্যানচালক। পরিবারের আর্থিক অবস্থা ভালো নয়। তিন বোনের মধ্যে প্রিয়াঙ্কা ছিল দ্বিতীয়। সে স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ে অষ্টম শ্রেণিতে পড়াশোনা করত। কিছুদিন ধরে বাবার কাছে একটি মোবাইল ফোন কিনে দেওয়ার আবদার করছিল সে। তবে সীমিত আয়ের কারণে মেয়ের সেই আবদার পূরণ করা সম্ভব হয়নি।

পরিবারের সদস্যদের ধারণা, মোবাইল ফোন কিনে না দেওয়ায় অভিমান থেকেই এমন ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারে প্রিয়াঙ্কা।

জানা গেছে, ঘটনার দিন প্রিয়াঙ্কার মা তার ছোট মেয়েকে নিয়ে স্কুলে যান। এ সময় বাড়িতে একাই ছিল প্রিয়াঙ্কা। মায়ের অনুপস্থিতিতে কোনো এক সময় সে আত্মহত্যা করে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

প্রিয়াঙ্কার মরদেহ বর্তমানে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রয়েছে।

একজন ভ্যানচালক বাবার সীমিত আয়ে সংসারের খরচ চালানোর পাশাপাশি সন্তানদের চাহিদা পূরণ করা কতটা কঠিন, এ ঘটনাটি যেন সেই বাস্তবতাকেও সামনে নিয়ে এসেছে। তবে ঠিক কী কারণে প্রিয়াঙ্কা এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তা তদন্ত ও পরিবারের বক্তব্য যাচাইয়ের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।