সম্পূর্ণ সাইটে দেখুন (মন্তব্য ও শেয়ার-সহ)
খুলনা • অপরাধ

খুলনায় এক মাসে চার স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর

ইয়াসিন শেখ সজীব • ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ০৫:২০ সকাল

খুলনা নগরীতে চাঁদা দাবিকে কেন্দ্র করে স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা বাড়ছে। সর্বশেষ শনিবার (৭ নভেম্বর) দুপুরে নগরীর খানজাহান আলী সড়কের নিউ এ্যাপোলো ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড কনসালটেশন সেন্টারে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করেছে দুর্বৃত্তরা। এ নিয়ে গত এক মাসে নগরীর চারটি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটল। এর বাইরে একটি রেস্তোরাঁতেও হামলার ঘটনা ঘটেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শনিবার দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটের দিকে পাঁচ যুবক চায়নিজ কুড়াল হাতে ডায়াগনস্টিক সেন্টারটিতে প্রবেশ করেন। এরপর তারা প্রতিষ্ঠানের সামনের কাচের দরজা, রিসিপশন কাউন্টার, দুটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র (এসি) ও একটি টেলিভিশনসহ বিভিন্ন আসবাব ভাঙচুর করেন। এ সময় হামলাকারীদের একজন পুরো ঘটনার ভিডিও ধারণ করছিলেন। তারা প্রতিষ্ঠানের এক কর্মীর মোবাইল ফোনও নিয়ে যান।

হঠাৎ এ হামলায় ভেতরে থাকা রোগী ও স্বজনদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ভাঙচুর শেষে হামলাকারীরা প্রকাশ্যে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।

ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন জানান, কিছুদিন আগে টুটপাড়ার নূর আজিম বাহিনীর সদস্য পরিচয়ে এক ব্যক্তি তাকে ফোন করেছিলেন। তবে ওই ব্যক্তিকে তিনি চেনেন না বলে জানান। এরপর ফোনের অপর প্রান্ত থেকে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়। প্রতিষ্ঠানটির মালিকপক্ষের কাছে সরাসরি চাঁদা দাবি করা হয়েছিল কি না, সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন।

ভবনটির অন্য প্রতিষ্ঠানের লোকজনের অভিযোগ, চাঁদা না দেওয়া এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের উদ্দেশ্যেই এসব হামলা চালানো হচ্ছে। তাদের দাবি, এসব ঘটনার সঙ্গে শীর্ষ সন্ত্রাসী নূর আজিম ও তার অনুসারীরা জড়িত। তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্তের মাধ্যমে সত্যতা নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

খুলনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লোকমান হোসেন বলেন, ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে হামলাকারীদের শনাক্ত করা হয়েছে। জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

এর আগে গত মাসের মাঝামাঝি নগরীর রয়েল মোড়ে সিটি কুইন্স ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এরপর ২৪ অক্টোবর সন্ধানী ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক কমপ্লেক্সে ৮ থেকে ১০ জন মুখোশধারী দুর্বৃত্ত দেশি অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। তারা চিকিৎসকের চেম্বারের সামনের কাচ, চেয়ার-টেবিল ও ক্যাশ কাউন্টার ভাঙচুর করে। যাওয়ার সময় আতঙ্ক ছড়াতে ক্লিনিকের বাইরে ফাঁকা গুলিও ছোড়ে।

এ ঘটনার চার দিন পর ২৮ অক্টোবর নগরীর আহসান আহমেদ সড়কের চাইনিজ প্যালেস রেস্তোরাঁয় হামলা ও ভাঙচুর করা হয়। কয়েকজন যুবক রেস্তোরাঁয় ঢুকে মালিককে খোঁজেন। তাকে না পেয়ে এবং কর্তৃপক্ষ কথিত এক ব্যক্তির ফোন রিসিভ না করায় ক্ষুব্ধ হয়ে তারা ভাঙচুর চালান।

সর্বশেষ ৩ নভেম্বর সন্ধ্যায় নগরীর শামসুর রহমান রোডে রংধনু ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার এবং আব্দুল্লাহ প্যাথলজিতে হামলার ঘটনা ঘটে। এ সময় প্রতিষ্ঠান দুটি বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়ে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মারধর করা হয়।

খুলনা মহানগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (খুলনা জোন) শফিকুল ইসলাম জানান, এসব ঘটনায় ভুক্তভোগীরা কোনো মামলা করেননি। তবে সন্ধানী ক্লিনিকের ঘটনায় ঘটনাস্থল থেকে গুলির খোসা পাওয়ায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করে। ওই মামলায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি ঘটনাগুলোতে এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি।